উক্ত যুদ্ধের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলো মূল্যায়ন কর।
উত্তর: যুদ্ধ কখনো মনারজাতির জন্য ইতিবাচক বা কল্যাণকর কিছু নিয়ে আসে না। যুদ্ধ মানেই ধ্বংস, যুদ্ধ মানেই মৃত্যু, যুদ্ধমানেই মানবজাতির জন্য চরম অভিশাপ। নিচে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলো মূল্যায়ন করা হলো-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানির নাৎসিবাদ, ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জাপানের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট ও নাৎসি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এসব দলের নেতাদেরও যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের কাঠগোড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল এ যুদ্ধ তার স্বরূপ উন্মোচন করে এবং এ ব্যবস্থাগুলো ইউরোপের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তার স্থান দখল করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে স্বল্পকালের জন্য হলেও মৈত্রীবন্ধন রচনা করতে সাহায্য করে। পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে এক বিস্তৃত অঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানি বিভক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে উপনিবেশবাদের পতন ঘটতে থাকে। পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান শুরু হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের স্থলে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং রাশিয়া-আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়। জাতিসংঘের উদ্ভব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফল ছিল।
HSC History 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 2nd Paper · সৃজনশীল
উক্ত যুদ্ধের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলো মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
i. ভার্সাই সন্ধির ত্রুটি: ভার্সাই সন্ধি দ্বারা জার্মানিকে চিরতরে পঙ্গু করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তাই জার্মানবাসী ভার্সাই সন্ধির নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে যায়।
ii. হিটলারের উত্থান: ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মানি শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। হিটলার ছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী। তিনি জার্মাবাসীকে ভার্সাই সন্ধির বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়ে জার্মানকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখাতে থাকেন।
iii. ব্রিটেনের তোষণ নীতি: ব্রিটেনের টোরি মন্ত্রীসভা মনে করত রাশিয়ার সাম্যবাদকে রোধ করতে হলে নাৎসি জার্মানিকে ব্যবহার করা দরকার। জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়লে পূর্ব ইউরোপ থেকে রাশিয়ার সাম্যবাদ্য জার্মানির পথে পশ্চিমে ঢুকে পড়বে। এর ফলে পশ্চিমের বুর্জোয়া গণতন্ত্র ধ্বংস হতে পারে। এজন্য ব্রিটেন জার্মানির শক্তি ও অস্ত্র বৃদ্ধিতে বাধা দেয়নি।
iv. জাপান ও ইতালির আগ্রাসন নীতি: এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ এবং ইতালির আগ্রাসন নীতি বিশ্বশান্তিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া ইতালির আবিলিনিয়া আক্রমণ আলবেনিয়া অধিকার এবং জাপান কর্তৃক মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ হিটলারকে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করে।এছাড়াও ভাইমার প্রজাতন্ত্রের পতন, সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সংঘাত, আদর্শগত দ্বন্দ্ব, হিটলার কর্তৃক অস্ট্রিয়া দখল ও পোল্যান্ড আক্রমণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।পরিশেষে বলা যায়, একক কোনো কারণে দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি বরং ইউরোপের পরিবর্তিত পরিস্থিতিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।
উত্তর