উদ্দীপকে উক্ত নেতা বলতে ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনীর প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মুসোলিনী তার স্বতন্ত্র বিশ্বাস দ্বারা প্রমাণ করতে চেয়েছে রাষ্ট্রই সকল শক্তির আঁধার- কথাটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মিলান শহরে যুদ্ধে কর্মচ্যুত সৈনিক এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক মানুষকে নিয়ে মুসোলিনী এক সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলনেই তিনি বেকার সেনা এবং বেকার যুবকদের নিয়ে এক আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেন। তিনি এর নাম দেন ফ্যাসিস্ট। মুসোলিনীর ফ্যাসিবাদে ব্যক্তিসত্তার কোনো মূল্য নেই। 'রাষ্ট্রই শক্তির আঁধার' এটিই ফ্যাসিবাদের মূলমন্ত্র। এক জাতি, এক দেশ, এক দল এবং এক নেতা- এ আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে মুসোলিনীর ফ্যাসিবাদ। তার ফ্যাসিবাদের মূলকথা হচ্ছে "রাষ্ট্রের জন্য সবকিছু, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছুই নয় এবং রাষ্ট্রের বাইরেও কিছু নয়।” তাছাড়াও মুসোলিনী বিশ্বাস করতেন, "এককালীন শান্তি সম্ভব নয়, সংগতও নয়।” তিনি আরও বলেন, মেয়েদের যেমন স্বাভাবিক নিয়ম গর্ভধারণ করা, যুবকরাও তেমনি রাষ্ট্রের জন্য স্বাভাবিক নিয়মে যুদ্ধ করবে।উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, রাষ্ট্র সকল শক্তির আধার কথাটি ইতালির একনায়ক ফ্যাসিস্ট মুসোলিনীর একটি স্বতন্ত্র বিশ্বাস, কিন্তু বাস্তবে কথাটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।