বর্ণিত ভয়াবহ যুদ্ধের অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানির নাৎসিবাদ, ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জাপানের সমরবাদের পরাজয় ঘটে। ফ্যাসিস্ট ও নাৎসি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সকল দলের নেতাদেরও যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের কাঠগোড়ায় দাঁড় করানো হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল এ যুদ্ধ তার স্বরূপ উন্মোচন করে এবং এ ব্যবস্থাগুলো ইউরোপের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তার স্থান দখল করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যে স্বল্পকালের জন্য হলেও মৈত্রীবন্ধন রচনা করতে সাহায্য করে। পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে এক বিস্তৃত অঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানি বিভক্ত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে উপনিবেশবাদের পতন ঘটতে থাকে। পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান শুরু হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের স্থলে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং রাশিয়া-আমেরিকা স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হয়। জাতিসংঘের উদ্ভব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফল ছিল।সুতরাং বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।