উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের অর্থাৎ দ্বিতীয় যুদ্ধের আংশিক ফলাফল বর্ণিত হয়েছে।উদ্দীপকে ফলাফল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সমরবাদের পতন এবং গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারার বিকাশ লাভের কথা বলা হয়েছে, যা ফলাফলের আংশিক বর্ণিত হয়েছে। তবে এ যুদ্ধের আরও বিস্তৃত ও গভীর ফলাফল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটি পরাশক্তির উদ্ভব ঘটে। ফলে এই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ বা মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব। যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্ভব ঘটে জাতিসংঘের। জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যুদ্ধ পরবর্তীতে অর্থনীতির পুনর্গঠন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশবাদের পতন ঘটে। উপনিবেশবাদীদের দুর্বলতার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো স্বাধীনতা লাভ করতে থাকে। এ সময় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ঘটে। বিভিন্ন অস্ত্রের উদ্ভব, রাডার, পরমাণুগত অনেক প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে। গণতন্ত্রের বিস্তার লাভ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে। জাপান ও জার্মানসহ বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এটি বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রসারে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলাফল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আংশিক দিক নির্দেশ করে। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।