প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী উক্ত ঘটনা অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানবসভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানবতার মহাবিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ক্ষয়ক্ষতি, ভয়াবহতা কিংবা প্রাণহানির বিচারে যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে মারাত্মক। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর চলা এ যুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ বিশ্বযুদ্ধে একদিকে ছিল জার্মানি, জাপান, ইতালি এবং তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া অক্ষশক্তি অন্যদিকে ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া মিত্রশক্তি জোট। রণাঙ্গনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে অনেক উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণহানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বহুলাংশে। এ বিশ্বযুদ্ধ দেশ থেকে দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল মহাদেশ থেকে মহাদেশে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাগরতল, মহাসাগর এমনকি অন্তরীক্ষেও চলেছিল প্রাণঘাতি সংঘাত। ৬১টি দেশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণে প্রায় ছয় বছরব্যাপী চলা এ যুদ্ধ পৃথিবীকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল। স্ট্যালিনগ্রাডে লক্ষ লক্ষ সৈন্যের প্রাণহানি এবং হিরোশিমা-নাগাসাকিতে যথাক্রমে লিটল বয়, ফ্যাটম্যান আণবিক বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা। আণবিক বোমা নিক্ষেপের পাশবিকতা ও এর ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বমানবতাকে থমকে দিয়েছিল। আজও জার্মানিরা সেই রাসায়নিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানবসভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল।