উদ্দীপকে বর্ণিত জামিলের কার্যক্রম আমার পাঠ্যবইয়ের এডলফ হিটলারের কার্যক্রমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হিটলার জার্মানির শাসনভার গ্রহণ করার পর স্বৈরাচারী হয়ে উঠেন। তিনি ১৯৩৪ সালে প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর দুটি পদই দখল করেন। তিনি ছিলেন জার্মান নাৎসিবাদের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক নেতা। 'তিনি ক্রমশ বিরোধী দলগুলোর কবর রচনা করেন। তার সরকার বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করে। গোয়েরিং, পল, যোসেফ গোয়েবেলস, হেইনরিখ হিমলার, হেস, বোয়েম প্রমুখ জার্মানিতে চরম একনায়কতন্ত্র ও নাৎসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে হিটলারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তারা বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের দমন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। দেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বন্দি শিবির খোলা হয়। তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়। তিনি গোস্টাপো নামক গোপন পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী দ্বারা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করে দেন। সরকার বিরোধী সকল পত্র-পত্রিকা বন্ধ করে দেন। সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। অনেক কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন। শুধুমাত্র তার রচিত মেইন ক্যাম্ফ (Mein Kampf) যা নাৎসিবাদের বাইবেল হিসেবে খ্যাত এই বইটি বাদে সকল বইপত্র পুড়িয়ে দেন। হিটলার বিরোধী কোনো শিক্ষিত মানুষের পক্ষে জার্মানিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত জামিলের কার্যক্রম আমার পাঠ্যবইয়ের এডলফ হিটলারের কার্যক্রমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আরহিটলারের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড ছিল খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির।