উদ্দীপকে উল্লিখিত সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসক রাষ্ট্র বলতে জার্মানিকে বোঝানো হয়েছে। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যে জার্মানি-শক্তির অহমিকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল সেই জার্মানিকে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে পরাজিত হতে হলো। যেসব কারণে, জার্মানকে পরাজিত হতে হলো তা নিচে উল্লেখ করা হলো-১. জার্মান সেনাপতিদের অসহযোগিতা হিটলারের প্রতি জার্মান, সেনাবাহিনীর নিরঙ্কুশ সমর্থনের অভাবে জার্মানকে পরাজিত হতে হয়েছে। হিটলারের আধিপত্য ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জার্মান সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে যা পরাজয়ের অন্যতম একটি কারণ।২. সামরিক উপকরণ, জনশক্তি ও সম্পদের অপ্রতুলতা জার্মানির অহমিকাই ছিল বেশি। জার্মানির সামরিক অস্ত্রশস্ত্র, জনশক্তি, খনিজ সম্পদ ছিল অপ্রতুল; যা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন রণাঙ্গনে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না।-ফলে জার্মান পরাজিত হতে বাধ্য হয়।৩. জার্মানির মিত্রদের দুর্বলতা ও অসহযোগিতা: ফ্রান্সের মিত্ররা ছিল সকলেই শক্তিশালী। সে তুলনায় জার্মানির মিত্ররা ছিল. দুর্বল। তাছাড়া জার্মানির প্রয়োজনের সময় তার মিত্ররা সাহায্যের জন্য খুব একটা এগিয়ে আসেনি। ফিনল্যান্ড, রুমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া সকলেই জার্মানির পক্ষ ত্যাগ করে মিত্রপক্ষের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ফলে জার্মানিকে অনেকটা অসহায়ের মতো যুদ্ধ করতে হয়েছে; যার পরিণাম ছিল পরাজয়।
৪. ত্রুটিপূর্ণ সামরিক কৌশল: জার্মানির সামরিক কৌশল ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফ্রান্সের পরাজয়ের পর জার্মানির রাশিয়া আক্রমণ যুক্তিসংগত ছিল না। রাশিয়া আক্রমণ ছিল হিটলারের বিরাট 'ভুল। যে ভুলের কারণে জার্মানিকে পরাজিত হতে হয়েছে। রাশিয়া সেনাবাহিনীর পোড়ামাটির নীতি উপেক্ষা করে জার্মান সেনাপতি পাউলাস রাজধানী মস্কোতে প্রবেশ করে। এটা ছিল জার্মানির সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা।উপর্যুক্ত কারণগুলো ছাড়াও আরও কতিপয় কারণে সাম্রাজ্যবাদী ও 'আগ্রাসক রাষ্ট্র জার্মানির পতন ঘটে। জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধা দিয়ে যে মহাযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, জার্মানির আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই এই যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।