উক্ত নেতার অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর উত্থানের কারণগুলো নিচে পর্যালোচনা করা হলো-
১. যুদ্ধোত্তর ভঙ্গুর অর্থনীতি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দ্রব্যমূল্য প্রায় দশগুণ বেড়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতিও ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে ইতালিতে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, এখানেই রচিত হয় ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের পটভূমি।
২. ইতালির আশা ভঙ্গ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির ব্যয় হয় ১২ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৬ মিলিয়ন সৈন্য অংশগ্রহণ করে। এ ৬ মিলিয়নের মধ্যে প্রায় ৭০,০০০ সৈন্য নিহত হয়। এ আর্থিক ক্ষতি এবং সৈন্যের ক্ষতিতে ইতালির মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ফলে তারা পরবর্তীতে এমন একজন নতুন মানুষের আকাঙ্ক্ষায় ছিল, যিনি ইতালির ভাগ্যকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাই ইতালিবাসী সদলবলে ফ্যাসিবাদকে সাদরে গ্রহণ করে এবং মুসোলিনীর পক্ষাবলম্বন করে উত্থানের পথকে সুগম করে দেয়।
৩. পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা: ১৯১৯ সালে তুরস্ক সাম্রাজ্যের এশিয়াস্থ অঞ্চল অধিকারের উদ্দেশ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইতালিকে উপেক্ষা করে গ্রিক সৈন্য অবতরণে সাহায্য করে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে নেতৃত্বের এ ব্যর্থতা ইতালিবাসীকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এর পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেন মুসোলিনী।
অতএব বলা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইতালিতে ফ্যাসিবাদের উদ্ভব হয়েছিল। সরকারের দুর্বলতা, সাম্যবাদী পরিকল্পনার ব্যর্থতা, ধনিক শ্রেণি কর্তৃক মুসোলিনীর দলকে সাহায্য দান এবং ইতালির প্রাচীনপন্থি সম্প্রদায়ের সমর্থন ইতালিতে মুসোলিনীর উত্থানে যথেষ্ট সাহায্য করে।