উক্ত কর্মকান্ড তথা হিটলার ও মুসোলিনির আগ্রাসী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল।
সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যুদ্ধ-বিগ্রহ করাকে মুসোলিনি ইতালির আধ্যাত্মিক অধিকার বলে দাবি করেন। তিনি যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। মুসোলিনি বুঝেছিলেন যে, ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, ও জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। অপরদিকে, হিটলারের মূল লক্ষ্য ছিল ভার্সাই সন্ধির অভিশাপ থেকে জার্মান জাতিকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জার্মানির শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তাই নাৎসিরা উগ্র জার্মান-জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল।
১৯৩৬ সালে হিটলার রাইনল্যান্ড দখল করে নেন। একই বছর হিটলার 'রোম-বার্লিন' চুক্তি করে আবিসিনিয়ায় ইতালীয় যুদ্ধকে সমর্থন জানান । ১৯৩৬ সালের নভেম্বরে হিটলার জাপানের সাথে কমিউনিস্টবিরোধী (Anti-Comintern Treaty) চুক্তির মাধ্যমে ইতালি-জার্মানি-জাপান ত্রিশক্তি জোট গড়ে তোলেন যা ইতিহাসে 'অক্ষশক্তি' নামে পরিচিত। হিটলারের নির্দেশে নাৎসিরা জার্মানি-চেক সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে এ অজুহাতে জার্মানি সুদেতেন অঞ্চল দখল করে নয়। এভাবে হিটলারের নেতৃত্বে জার্মান বাহিনী একে একে ভার্সাই সন্ধি লঙ্ঘন করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী জার্মান সীমানার প্রায় সমস্ত অঞ্চল পুনরাধিকার করতে সক্ষম হয়। এরপর জার্মানি পোল্যান্ডের দিকে নজর দেয় । পোল্যান্ড আক্রমণের পূর্বে হিটলার একের পর এক কৌশলী নীতি প্রয়োগ করে রাশিয়াকে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর হিটলার জার্মান বাহিনীকে পোল্যান্ড আক্রমণের নির্দেশ দিলে ওই বছরই ৩ সেপ্টেম্বর ইঙ্গ-ফরাসি বাহিনী জার্মানির বিরুদ্ধে - যুদ্ধ ঘোষণা করে । এভাবে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উগ্র জাতীয়তাবাদী মুসোলিনি ও হিটলারের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে তরান্বিত করে ।