হ্যাঁ, উক্ত ফলাফল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবীর প্রধান ঔপনিবেশিক দেশগুলো তথা যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ইত্যাদি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যুদ্ধে দেশগুলোর জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, জাতীয় মেধার ব্যাপক ক্ষয় হয়।
যুদ্ধের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এশিয়া আফ্রিকার অনেক পরাধীন দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ইন্দোচীনসহ এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক উপনিবেশ ক্রমান্বয়ে স্বাধীন হয়ে যায়। একই সাথে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। ভারত, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, বার্মা, মালয়, সিরিয়া ও লেবাননের জাতিসমূহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই তাদের মুক্তির পথ দেখতে পেয়েছিল। তাই তারা দখলদার শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার করে তোলে। কেবল যুদ্ধোত্তর ১৫ বছরের মধ্যে ২২টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার পরের ১৫ বছরে অর্থাৎ ১৯৬০-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গঠিত হয় ৬২টি স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৭০-এর দশকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের বস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্বের নির্যাতিত জাতিগুলোর মুক্তির যুগের সূচনা ঘটে।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাতের ফলে সর্বত্র উপনিবেশবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটতে শুরু করে। তাই বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী ।