উদ্দীপকের বন্ধুত্বের মতো আমার পাঠ্যবইয়ের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর বন্ধুত্ব অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর 'ত্রিশক্তি আঁতাতের' অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ সুযোগে জার্মানি তার হারানো শক্তি সুসংহত করার সুযোগ পায়। ১৯৩৬ সালে লীগ অব নেশনসের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জর্মানি ইতালিকে আবিসিনীয় যুদ্ধে সমর্থন জানায়। এসময় নাৎসি জার্মানির নেতা হিটলার এবং ইতালির নেতা বেনিতো মুসোলিনী ছিলেন সমমনা রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী। ফলে ইতালি-জার্মান সখ্য গড়ে ওঠে। অতঃপর উভয় রাষ্ট্রই কমিউনিস্ট বিরোধী চুক্তি সম্পাদন করে। একই বছর হিটলার জাপানের সাথেও কমিউনিস্ট বিরোধী আরেকটি চুক্তি সম্পাদন করলে রোম-বার্লিন-টোকিও ঐক্যজোট গড়ে ওঠে। ইতিহাসে এটি অক্ষশক্তি হিসেবে পরিচিত। অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে ব্রিটেন, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলে বৃহৎ শক্তিজোট গঠন করে, ইতিহাসে যা মিত্রশক্তি হিসেবে পরিচিতি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রায় একই রকম রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী আদিব ও কামরুলের সাথে সিয়ামও যুক্ত হলে তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তারা তাদের সমন্বিত শক্তি, আশেপাশে প্রয়োগ করতে শুরু করলে পার্শ্ববর্তী ও দূরবর্তী এলাকায় সম ও বিপরীত আদর্শে বিশ্বাসীরা তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ঐক্যবদ্ধ হয়। এখানে আদিব, কামরুল ও সিয়ামের বন্ধন দ্বারা অক্ষশক্তি জোট এবং এর বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ 'শক্তি দ্বারা মিত্রশক্তি জোটকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।