উদ্দীপকে যে দুজন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে তারা হলেন হিটলার ও মুসোলিনী। তারা উভয়েই জাতীয়তাবাদী নেতা। তবে তারা জাতীয়তাবাদকে বিশ্বশান্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন। মুসোলিনী চেয়েছিলেন ইতালিকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে। অপরদিকে, হিটলার চেয়েছিলেন পুরো বিশ্বকে জার্মান জাতির দাসত্বের অধীনে আনতে। দুজনের ব্যক্তিগত জীবনই বৈচিত্র্যময়। উভয়েই ছিলেন একনায়ক। উভয়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়-
প্রথমত, হিটলার তার আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য যে দল গঠন করেছিলেন তার সদস্যদের নির্দিষ্ট পোশাক ছিল। এটি ছিল বাদামি রংয়ের। এরা সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ করত। অনুরূপ মুসোলিনীও তার দলীয় সদস্যদের সামরিক ধাঁচে প্রস্তুত করেন। মুসোলিনীর দলীয় পোশাক ছিল কালো প্যান্ট-শার্ট ও কালো টুপি ।
দ্বিতীয়ত, উভয়েই গণতন্ত্রকে হত্যা করেন। উভয়েই কমিউনিস্টদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করেন। দুজনেই প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন; এরপর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন ।
তৃতীয়ত, হিটলার ও মুসোলিনী উভয়েই যুবশক্তির আবেগকে জাতীয়তাবাদী চেতনার আড়ালে ব্যবহার করেছেন ।
চতুর্থত, হিটলার ও মুসোলিনী উভয়ের জনসমর্থনের ভিত্তি ছিল দুর্বল। উভয়েই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রচলিত সরকার ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়ে সন্ত্রাস ও ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। পঞ্চমত, হিটলার জার্মান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন নাৎসিবাদ-এর মাধ্যমে। অপরদিকে, মুসোলিনী যুবসমাজকে বিমোহিত করেছিলেন ফ্যাসিবাদের আদর্শে ।
ষষ্ঠত, হিটলার ও মুসোলিনী কেউই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন না। তারা কেউই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। তারা উভয়েই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার মধ্যে বেড়ে ওঠেন। উভয়েই বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে মুসোলিনী ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী ইতালীয় নাগরিক। অপরদিকে, হিটলার ছিলেন পরাজিত জার্মানির নাগরিক।