উদ্দীপকে উল্লিখিত দলটি তথা নাৎসি পার্টি জার্মানির রাজনীতিতে নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করে- এ বক্তব্যটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
নাৎসি দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ায় হিটলার জার্মানির সর্বত্র একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৪ সালের ২৪ জুলাই জার্মানে নাৎসি দল ছাড়া সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ভাইমার প্রজাতন্ত্রের সংবিধান কার্যত রহিত করা হয়। আইনসভার অনুমোদন ছাড়াই আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করা শুরু হয়। প্রাদেশিক পরিষদ বিলুপ্ত করে এককেন্দ্রিক শাসন কাঠামো গড়ে তোলা হয়। দেশের সংবাদপত্র, বেতার, শিক্ষাসহ সকল প্রতিষ্ঠানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। যেকোনো সময় দেশের যেকোনো - নাগরিককে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বন্দি শিবির খোলা হয়। ১৯৩৪ সালের ৩০ জুন রাতে বার্লিন, ব্রেসলা মিউনিসহ বিভিন্ন শহরে হিটলারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর অভিযোগ এনে এক হাজারেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়। এটিকে লম্বা ছুরির রজনী বলে ডায়ার্ডচিত্তে স্মরণ করা হয়ে থাকে । দলীয় স্বার্থ রক্ষা ও নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তার জন্য হিটলার এক ঝটিকা বাহিনী গঠন করেন যার নাম ছিল সংক্ষেপে SA বাহিনী। এছাড়া তিনি তার ব্যক্তিগত রক্ষী বাহিনী S.S গঠন করেন। হিটলার বিরোধী কোনো শিক্ষিত মানুষের পক্ষে জার্মানিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে অধ্যাপক মিহির যে সাহসী স্বপ্নদ্রষ্টার গল্প বললেন, তিনিও হিটলারের ন্যায় ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়ে ভবঘুরে জীবনযাপন করেন। তার দেশে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার দেশ অন্যায় সন্দ্বি মেনে নেয়। যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি দেশের জনগণকে নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত করে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন।
উপরের আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে, নাৎসি দল ক্ষমতার গ্রহণের পর জার্মানিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল বা মতের কবর রচিত হয়।