উক্ত জোটের তথা অক্ষচক্তি চুক্তি ও মিত্রশক্তি জোটে সমন্বিত শক্তির অপপ্রয়োগই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণ। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
ইতালি, জার্মানি ও জাপান এর তিন রাষ্ট্র মিলে অক্ষশক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেন নানা জটিল ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মিত্রশক্তি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মূলত মিত্রজোটের নেতৃত্ব ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাজনৈতিক ও মনস্তাত্তিক দিক থেকে এটা ছিল অক্ষশক্তির বিপরীত রাজনৈতিক ও সামরিক জোট। অক্ষশক্তি চুক্তির মাধ্যমে ইতালি ও জার্মানি তাদের সম্প্রসারণশীল তাৎপরতা পরিচালনার জন্য দুটি পৃথক অঞ্চল বেছে নিয়েছিল। ইতালির বিস্তার নীতির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং জার্মানি ছিল মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ। ১৯৬৮ সালে মিউনিখ বৈঠকে মুসোলিনী সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং জার্মান জাতি যাতে চেকোস্নোভাকিয়ার একাংশ পায় তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। অতঃপর মুসোলিনি হিটলারকে এভাবে সন্তুষ্ট করে নিজে ১৯৩৮ সালে আলবেনিয়া অধিকার করেন। মূলত রোমা-বার্লিন- টোকিও অক্ষশক্তির মাধ্যমে পৃথিবীতে আরো একটি বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত হয়।
ভার্সাই সন্ধির দ্বারা অসন্তুষ্ট জার্মানি, ইতালি, জাপান তাদের প্রতিপক্ষ মিত্রশক্তি বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গ্রহণ করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে । অন্যদিকে শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই অক্ষশক্তির মোকাবেলা করার জন্য সমরসজ্জায় মত্ত হয়। যার শেষ পরিণতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
সুতরাং বলা যায় যে,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংগঠনের অন্যতম কারণ হলো অক্ষশক্তি চুক্তি ও মিত্রশক্তি জোটে সমন্বিত শক্তির অপপ্রয়োগ — বক্তব্যটি যথার্থ।