উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ব্যক্তি তথা হিটলারের কার্যক্রম বিশ্বকে দ্বিতীয়বারের মতো মহাযুদ্ধে ঠেলে দিয়ে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল।
এডলফ হিটলার ছিলেন নাৎসিবাদের প্রবক্তা। তিনি বিশ্বে জার্মান জাতির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার কথা প্রচার করে জাতির মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব জাগিয়ে তোলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানির ওপর বিজয়ী মিত্রশক্তির প্রতিশোধমূলক 'ভার্সাই সন্ধি হিটলারকে ক্ষুব্ধ করেছিল। তার নাৎসি তত্ত্বে বলা হয়- আর্য জাতিগোষ্ঠী হচ্ছে শ্রেষ্ঠ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং সেই আর্যদের মধ্যে জার্মানরাই শ্রেষ্ঠ। হিটলার মনে করতেন, আর্য হওয়ার কারণে জার্মান জাতির দায়িত্ব হলো বিশ্বকে পদানত করে শাসন করা। আর আর্যদের জাতিগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে অনুন্নত জাতির মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এর আলোকেই নাৎসিরা কৃষ্ণাঙ্গসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘুকে বিচ্ছিন্ন থাকতে বাধ্য করে এবং বিশ্বযুদ্ধের সময় লাখ লাখ ইহুদিকে হত্যা করে। হিটলার ফ্রান্সের কাছ থেকে তার আলসাস, লরেন ও সার অঞ্চল এবং পোল্যান্ডের কাছ থেকে ডানজিগ ও 'পোলিশ করিডর' ফেরত চান। ১৯৩৬ সালে তিনি রাইনল্যান্ড দখল করে নেন। একই বছর তিনি ইতালি-জার্মান-জাপান 'ত্রিশক্তি জোট' গঠন করেন। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে ৩ সেপ্টেম্বর ইঙ্গ-ফরাসি বাহিনী জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
উপরের আলোচনা পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সৃষ্টিতে হিটলারের আগ্রাসী মনোভাব অনেকাংশে দায়ী ছিল। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বকে একটি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছিল।