উদ্দীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে। কেননা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে (১৯৩৯-১৯৪৫ সাল) বিশ্বে যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আর এ যুদ্ধে উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রের ন্যায় জার্মানি পরাজিত শক্তি হিসেবে শান্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শাস্তি হিসেবে একে দু'ভাগে ভাগ করে এর শক্তি খর্ব করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটনের পেছনে অনেক কারণ দায়ী ছিল। তবে এর মূল কারণ ভার্সাই সন্ধির মধ্যে নিহিত ছিল। ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাদি জার্মানির জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর চরম আঘাত এনেছিল। ফলে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদ তীব্রভাবে প্রকাশিত হয় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তথা জার্মানি, ইতালি, জাপান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) সাম্রাজ্যবাদী নীতি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এ সকল রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন অঞ্চল বা রাষ্ট্র দখল করে তাদের উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দেয়। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্ব এক অনিবার্য যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এছাড়া ১৯২৯-১৯৩০ সালে বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী দেশগুলো অর্থনৈতিক মহামন্দায় নিপতিত হলে ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জার্মানির নাৎসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এসব উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদ ইতালি ও জার্মানির জনগণকে যুদ্ধোন্মাদ করে তোলে। আর হিটলারের সকল কূটনীতি এবং ইংল্যান্ডের জার্মান শোষণনীতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে গতিময় করে তোলে।
সর্বোপরি জাপান-জার্মানি-ইতালি অক্ষশক্তি জোট গঠন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জার্মানির চুক্তিভঙ্গ, লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা, একনায়কত্ব ও গণতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।