উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল তোমার মতামত দাও।
উত্তর: হ্যাঁ আমি মনে করি, উক্ত শাসকের অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর কর্মকাণ্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ইতালির অবস্থা নানা দিক দিয়ে শোচনীয় ছিল। দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব এবং শিল্পের অনগ্রসরতার কারণে ইতালির জনসাধারণ একধরনের হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। ইতালিতে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে আবির্ভাব হয় বেনিতো মুসোলিনীর। মুসোলিনীর সময় ইতালির পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল ইতালির সম্প্রসারণ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সকল সুযোগ নিয়ে ইতালির রাষ্ট্রীয় গৌরব বৃদ্ধি ও প্রতিপত্তি স্থাপন করাই মুসোলিনীর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল। ১৯২৭ সালে মুসোলিনী ঘোষণা করেন যে, ফ্যাসিস্ট ইতালির প্রধানতম কর্তব্য হলো ইতালির পদাতিক, নৌ ও বিমানবাহিনীকে সকল সময়ের জন্য প্রস্তুত রাখা। মুসোলিনী যুদ্ধকেই তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে মনে করতেন। তিনি বলতেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" ব্রিটেন ও ফ্রান্স উভয়কেই পরস্পরের সাথে বিবাদে লিপ্ত করে, ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আধিপত্য স্থাপন করার ও সাম্রাজ্য বিস্তার করার নীতিও তিনি গ্রহণ করেন। আবিসিনিয়া জাতিপুঞ্জের সদস্য হওয়ার পরেও ইতালি আবিসিনিয়া আক্রমণ করে। ইতালি আবিসিনিয়াকে তার রাজ্যভুক্ত ঘোষণা করে। এই ঘটনা জাতিপুঞ্চের মর্যাদা অনেকাংশে নষ্ট করে এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিফলতা প্রমাণ করে। এরপর ইতালি আলবেনিয়া গ্রাস করার লক্ষ্যে ১৯৩৯ সালে আলবেনিয়া আক্রমণ করে। ১৯৩৯ সালে ইতালি ও জার্মানির মধ্যে একটি সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে সাহায্য করে। পরিশেষে বলা যায়, উক্ত নেতৃত্বের অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর কর্মকাণ্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল।
HSC History 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · History 2nd Paper · সৃজনশীল
উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল …
উদ্দীপক
হলিক্রস কলেজ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর