উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের শাসক রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার-এর মিল রয়েছে।
১৮৫৫ সালে জার প্রথম নিলোকলাসের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ার জার পদ গ্রহণ করেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে অনুধাবন করেন যে, রাশিয়া ও ইউরোপে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তা স্তিমিত রাখা সম্ভব নয়। তাই তিনি শাসন ক্ষেত্রে প্রজাবন্ধর নানা সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ২৬ বছরের শাসনকালে আলেকজান্ডার উদার ও গণতান্ত্রিক শাসক প্রবর্তন করে পূর্ববর্তী শাসক জার দ্বিতীয় নিকোলাসের স্বেচ্ছাতন্ত্রের কঠিন বাতাবরণ সরিয়ে রাশিয়ায় রাজনৈতিক জীবনে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি থার্ড সেকশন পুলিশ বাহিনী ভেঙে দেন এবং অন্যায়ভাবে গ্রেফতার নিষিদ্ধ করেন। তাছাড়া তিনি বিচার বিভাগের সংস্কার সাধন করেন এবং জার নিকোলাস কর্তৃক বন্দিদের মুক্ত করে দেন। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কার হলো ভূমিদাস প্রথা বাতিল করা। ভূমিদাসদের অমানবিক প্রথা বাতিল করে তিনি ইতিহাসের মুক্তিদাতা ও উদারনৈতিক জার হিসেবে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশাল দেশ নিঝুমপুরে একজন উদারনৈতিক শাসকের আবির্ভাব ঘটে। তিনি তার পিতা কর্তৃক নির্বাসিত সকল বিদ্রোহীকে মুক্তি দেন এবং সমাজে প্রচলিত অমানবিক প্রথার সংস্কার করেন। উদ্দীপকের শাসকের এ সকল বৈশিষ্ট্য উপরে আলোচিত রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উল্লিখিত শাসকের সাথে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের মিল রয়েছে।