উক্ত বিপ্লব অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লব রাশিয়ার সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল।
বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়া থেকে জারতন্ত্র উচ্ছেদ হয়। রাশিয়ায় প্রচলিত শ্রেণিভিত্তিক সমাজের পরিবর্তে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু হয়। রুশ বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ায় বিদ্যমান বৈষম্য ও শোষণমূলক সমাজব্যবস্থা উচ্ছেদ করা। বিপ্লবের পর নতুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধনী ও গরিবের বৈষম্য ঘুচিয়ে আনা হয়। ফলে সমাজে পশ্চাৎপদ মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমে উন্নত হয়। রুশ বিপ্লবের পর দেশের সকল নাগরিকের সমান সুযোগ-সুবিধার পাওয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক গণশিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়। রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। সর্বোপরি এ বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের যে ভিত্তি নির্মিত হয়, তার ওপর নির্ভর করে সে দেশের কৃষক-শ্রমিক শ্রেণি সাম্যবাদী সমাজ গঠনে উৎসাহিত হয়। ক্রমে বলশেভিক বিপ্লবের ঢেউ রাশিয়ার সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বিস্তার লাভ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে তাই বলা যায় যে, শুধু রাশিয়ার সমাজব্যবস্থায় নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সমাজব্যবস্থায় বলশেভিক বিপ্লব সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এনেছিল।