উল্লিখিত বিপ্লব সংঘটনে দার্শনিকদের ভূমিকা মূল্যায়ণ করা হলো:
রুশ বিপ্লবে জার্মান লেখক কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) এবং ফ্রেডরিখ এংগেলস (১৮২০ -১৮৯৫) সমাজতন্ত্রের বৈজ্ঞানিক ব্যাখা প্রদান করেন। অন্যদিকে রুশ সাহিত্যিক পুসকিন লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, ইভান তুর্গনেভ, ম্যাক্সিম গোর্কি জারদের প্রতিবাদ জানাতে থেমে থাকেননি। তাদের ক্ষুরধার লেখনিতে জার শাসনের অক্ষমতা, স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব, রাষ্ট্রতন্ত্রের আগ্রাসী রূপ, গণমানুষের উপর শোষণ-নির্যাতন আর নানা অন্যায়ের চিত্র ফুটে উঠতে দেখা যায়।
এসময় কার্ল মার্কসের “শ্রেণি সংগ্রাম” তত্ত্বটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। মার্কস মনে করেন, মানবজাতির ইতিহাস তার ক্রমোন্নতিকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।মার্কস এর শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্বের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, নির্দিষ্ট উৎপাদন ব্যবস্থায় সমাজের মধ্যকার শ্রেণি সম্পর্ক। তার লেখা Das Kapital পুঁজিবাদের সমালোচনামূলক একটি বই।
কার্ল মার্কস ও ফ্রেডরিখ এংগেলস লেখেন 'দ্য কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো' নামের বইটি। যা রাশিয়ার সম্পর্কে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।
লেলিন দুটি গ্রন্থ লেখেন। একটি হলো Imperialism: The Highest Stage of Capitalism. অন্যটি হলো The Development of Capitalism in Russia. তৎকালীন ভঙ্গুর রাজনীতি,জারদের স্বৈরশাসন, অভিজাতদের বিলাসী জীবনযাপনে রাশিয়া ছিল বিক্ষুব্ধ। রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণী ছিল অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। তাদের সাড়া জাগাতে সাহায্য করে দার্শনিকগণের লেখনি।