উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবের পটভূমি নির্মাণে উক্তদেশে বিপ্লবপূর্ব আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভূমিকা মূল্যায়ণ করা হলো:
• সমাজতান্ত্রিক মতবাদ: রাশিয়ার জার সরকার স্বৈরাচারী হয়ে পড়লে শ্রমিক শ্রেণির উপর শোষণ ও অবহেলা বেড়ে যায়। যার ফলে রাশিয়ায় বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়ে।
• রাশিয়ার ভঙ্গুর সমাজ কাঠামোঃ ১৮ শতক থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নানা পরিবর্তন ঘটে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, উন্নত জীবনধারা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় ইউরোপ।কিন্তু সেদিক থেকে বিচার করতে গেলে রাশিয়ায় জারদের দমননীতি সব উন্নয়ন ব্যাহত করে দিয়েছিল। নানা দিক থেকে তারা পিছিয়ে পড়ে এবং রাশিয়ার সমাজব্যবস্থা হয়ে পড়ে ভঙ্গুর।
• জারতন্ত্রের অযোগ্য শাসন: জারতন্ত্রের অযোগ্যতাই রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পথ সুগম করেছিল। দেশের অভ্যান্তরে অত্যাচারী শাসনের বিপরীতে ১৮৫৪-৫৬ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ে জারতন্ত্র জনগণের আস্থা হারায়। যার ফলে বলভেশিক বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়ে।
• অর্থনৈতিক সংকট: জারদের অপশাসনের মুখে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও দীনতা চরমে ওঠে। বলশেভিক বিপ্লবের কারণ হিসেবে তাই এই সংকটকে চিহ্নিত করা হয়।জার ও অভিজাত শ্রেণীর ভোগবিলাসী জীবন,অর্থনীতিতে পরিকল্পনার অভাব কৃষিক্ষেত্রে অনুর্বরতা, শিল্পক্ষেত্রে গতিহীন অবস্থান সব মিলিয়ে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পথ তৈরি করে দিয়েছিল।
রাশিয়ার ভঙ্গুর সমাজ কাঠামো,অপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, জারদের অযোগ্যতা বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল।