উক্ত বিপ্লব তথা রুশ বিপ্লবের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়। এ বিপ্লবের ফলে রাশিয়া থেকে জারতন্ত্র ও বুর্জোয়া গণতন্ত্র উচ্ছেদ হয়। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সারাবিশ্বে প্রচলিত প্রথাগত শ্রেণিভিত্তিক সমাজের পরিবর্তে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা শুরু হয় বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান বৈষম্য ও শোষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা। বিপ্লবের পর পুরনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। নতুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাম হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এতে ধনী ও গরিবের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনা হয়। ফলে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমে উন্নত হয়।
অন্যদিকে বিশাল দেশ রাশিয়া থেকে সমাজতন্ত্রের আদর্শ এর প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার নেতৃত্বে এ আদর্শ বাস্তবায়নের কাজ চলতে থাকে। এর ফলে বিশ্ব পর্যায়ক্রমে দুইটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশগুলো একটি বলয়ে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী বিশ্ব আরেকটি বলয়ে ভাগ হয়। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (বলশেভিক বিপ্লবের পরে রাশিয়ার নতুন নাম) মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৈরিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে যা 'শীতল যুদ্ধ' বা 'স্নায়ুযুদ্ধ' নামে পরিচিত। বিশ্বের প্রধান ক্ষমতাধর দেশদুটি অন্য দেশগুলোকে নিজেদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে টেনে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। কাজেই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বলশেভিক বিপ্লব প্রকৃতই বিশ্বকে সমাজতন্ত্রী ও পুঁজিবাদী এই দুই বলয়ে বিভক্ত করেছিল ।
পরিশেষে বলা যায়, রুশ বিপ্লবের ফলে যেমন রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, একইভাবে বিশ্ব সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী বলয়ে বিভক্ত হয়।