ইতিহাসে উক্ত নেতা অর্থাৎ ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের অবদান অপরিসীম।
লেনিন ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় অত্যাচারী জারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সংযোজন করেন। বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্ম দেন তিনি। স্বনামধন্য জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস ছিলেন সমাজতান্ত্রিক মতবাদের তাত্ত্বিক প্রবক্তা। অন্যদিকে মার্কসীয় তত্ত্বকে বাস্তবে রূপদানের মূল পরিকল্পনাকারী, সংগঠক এবং বিপ্লব-পরবর্তী রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের মূল নেতৃত্বদানকারী ছিলেন লেনিন।
লেনিন তার বিভিন্ন রচনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রুশ শ্রমিকদের মধ্যে মার্কসীয় তত্ত্ব প্রচারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে শ্রেণি চেতনা জাগিয়ে তোলার জোর প্রচেষ্টা চালান। লেনিন তার বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিসের মাধ্যমে রাশিয়ান সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বিপ্লবের উপযুক্ত সময় ও কর্মকৌশল সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। ফলে বুর্জোয়া বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি দ্রুত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে ধাবিত হয়। লেনিনের নেতৃত্বে ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর (পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ নভেম্বর) রাশিয়ার ক্ষমতা শ্রমিকদের হাতে চলে আসে। শুরু হয় শ্রেণিবৈষম্যহীন এক সমাজের পথে যাত্রা ।
রুশ বিপ্লব শুধু রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেনি এটি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের অবসান ঘটিয়ে শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বহু দেশে এ আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তথা বিশ্বের ইতিহাসে লেনিনের অবদান অপরিসীম।