বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থার প্রথম গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার প্রবর্তনের কারণে উক্ত নেতাকে অর্থাৎ লেনিনকে বিশ্ব শতাব্দি স্মরণীয় মহাপুরুষ বলা হয়। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
রুশ বিপ্লবের পরে লেলিন রাশিয়া সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। এ বিপ্লবের পরপর তিনি জার্মানির সাথে ব্রেস্ট লিটভস্কির সন্ধির দ্বারা রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরিয়ে আনেন। ফলে জার্মানির সাথে শক্তি স্থাপিত হওয়ায় তিনি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মনোযোগ দিতে সমর্থ হন। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। প্রথমত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে বলসেবিক সরকার রাশিয়ার পুরাতন সরকার ব্যবস্থা প্রশাসনিক কাঠামোগুলো ভেঙ্গে দেয়। দ্বিতীয়ত ডুমা বা পার্লামেন্ট বাতিল ঘোষণা করা হয়। তৃতীয়ত মেস্কো ও পেট্রোগ্রাড শহরে মেও মিউনিসিপ্যালিটি গুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়। চতুর্থত জার সরকারের সময়ে সৃষ্ট সিনেটসমূহ ভেঙে দেওয়া হয়। পঞ্চমত জেলা পরিষদগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয় কারণ এই জেলা পরিষদ গুলো বর্জোয়া সংবিধানে সমর্থক ছিল। ষষ্ঠত রাশিয়ায় যাকে রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ধর্ম নিরপেক্ষ তাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এছাড়াও ১৯২৪ সালের রাশিয়ায় একটি স্থানীয় সংবিধান গৃহীত হয় এবং রাশিয়াকে ( USSR) ঘোষণা দেওয়া হয়। বিপ্লবের পর লেনিনের বলসেবিক সরকারের দেশের সকল নাগরিক ও জাতিসত্তার শিক্ষা সংস্কৃতি মনোনয়নের লক্ষ্যে গণশিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রুশ জাতি ছাড়াও অন্যান্য জাতীয় শিক্ষিত হয়ে ওঠে। বিপ্লবের পর রাষ্ট্র তার প্রত্যক্ষ নাগরিকের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে মানুষের ন্যূনতম মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে লেলিন রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শাসন কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধন করে এবং শ্রেণীহীন, বৈষম্যহীন, শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।