উল্লিখিত সাম্যবাদী চেতনা অর্থাৎ বলশেভিক বিপ্লবের চেতনা পৃথিবীব্যাপী ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল এবং বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব বিশ্বের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। সারা বিশ্বে বঞ্চিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায় সংগ্রামে এই বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। বলশেভিক বিপ্লব পশ্চিম ইউরোপের পুঁজিবাদী সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর ভীষণভাবে আঘাত করে।
বলশেভিক বিপ্লবের ফলেই বিশ্বে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু হয়। এই বিপ্লবের পর বিশ্বের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যেমন মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, কিউবা ইত্যাদি রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রাশিয়া সংলগ্ন পূর্ব ইউরোপজুড়েও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়। এছাড়া ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার আরো অনেক দেশে রুশ বিপ্লবের প্রভাব পড়ে। সমাজতান্ত্রিক মতবাদে প্রভাবিত হয়ে বিশ্বের অনেক পরাধীন দেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। ফলশ্রুতিতে এর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশবাদ ভেঙে পড়ে। এছাড়াও এই বিপ্লবের মর্মবাণী ধারণ করেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বিস্তার ঘটে।
সুতরাং বলা যায় যে, বলশেভিক বিপ্লব শুরু রাশিয়াতে নয় বরং বিশ্বজুড়ে শোষিত ও অবহেলিত মানুষকে দারুণভাবে উদ্বেলিত করেছিল।