উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার নেতৃত্বের ন্যায় রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের নেতা লেনিনের নেতৃত্বও সফলতা লাভ করেছিল। লেনিন ছিলেন একজন সম্মোহনী নেতৃত্বগুণের অধিকারী নেতা। তার নেতৃত্বেই বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়। জনগণ রুটির জন্য রাস্তায় নেমে আসে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে সারা রাশিয়ায় ব্যাপক অভ্যুত্থান ঘটে। জনগণের দাবির মুখে জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরকার গঠন করে। এসময় লেনিন সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে তার বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন। ওই থিসিসে লেনিন উল্লেখ করেছিলেন যে, ১. মার্চ বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণির জয় হয়েছে, এতে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। ২. বুর্জোয়া শাসনের তথাকথিত সংকটের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। বুর্জোয়া বিপ্লব এবং শ্রমিক বিপ্লব । একসাথে চলবে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা ক্ষমতা দখল করবে। ৩. শ্রমিকের স্বার্থে এখন ক্ষমতা দখল করতে হবে।
লেনিনের লক্ষ্য ছিল বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত করা এবং জমিদার ও পুঁজিপতিদের উচ্ছেদ সম্পূর্ণ করা। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর বলশেভিকরা বিদ্রোহী হয়ে রেলস্টেশন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও অন্যান্য সরকারি ভবন দখল করে নেয়। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতা গ্রহণ করে। এভাবে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বলশেভিক বিপ্লব সংঘটনে এবং রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লেনিনের নেতৃত্ব সফলতা লাভ করেছিল।