উক্ত নেতা অর্থাৎ ভি.ই লেনিন পৃথিবীর বুকে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পারিবারিকভাবে লেনিন বিপ্লবী আদর্শ গ্রহণ করলে সরকার তাকে নির্বাসনে পাঠায়। রাশিয়ার জারতন্ত্রের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কৃষকগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠলে শ্রমিকরাও তাদের সাথে যোগ দেয়। এ অবস্থায় বলশেভিক নেতা লেনিন সুইজারল্যান্ডের নির্বাসন থেকে রাশিয়ায় ফিরে এসে (১৬ এপ্রিল, ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ) বলশেভিক কর্মীদের সামনে বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' বা 'এপ্রিল মতবাদ' নামে এক কর্মধারা তুলে ধরেন। বলশেভিক কর্মীদের তিনি বলেন যে, বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রী সরকারের হাত থেকে এক্ষুণি ক্ষমতা কেড়ে নিতে হবে। তিনি দাবি করেন যে, “সব ক্ষমতা সোভিয়েতগুলোর হাতে দিতে হবে।” তিনি শ্রমিক, কৃষক, সৈনিক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'সর্বহারার একনায়কত্ব' প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই বহুসংখ্যক সৈনিক ও অসংখ্য শ্রমিক প্রেট্রোগ্রাডের রাস্তায় সমবেত হয়ে 'সব ক্ষমতা সোভিয়েতগুলোকে দেবার দাবি তোলে প্রজাতন্ত্রী সরকার এ শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর গুলি চালায়। এ অবস্থায় 'মেনশেভিক' দলের সেনাপতি আলেকজান্ডার কেরেনস্কি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সরকারও অচিরেই জনসমর্থন হারায় জনসাধারণের আপত্তি উপেক্ষা করে এ সরকার জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। যুদ্ধের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সংকট তীব্রতর হয়। অবস্থা মেনশেভিকদের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। এ পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর লেনিনের নির্দেশে ট্রটস্কির নেতৃত্বে 'রেড গার্ড বা “লাল ফৌজ' নামক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী রাজধানী প্রেট্রোগ্রাড-এর সরকারি অফিস, ব্যাংক, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেলস্টেশন দখল করে। কেরেনস্কি পলায়ন করেন। বলশেভিকরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।