উক্ত দুটি রাষ্ট্র অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আদর্শগত পার্থক্যের কারণে পরস্পর পরস্পরকে অপছন্দ করছে- এ বক্তব্যটি যথার্থ।১৯৪৫ সালে ইয়াল্টা সম্মেলনে জোসেফ স্ট্যালিনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কিন্তু মার্কিন বলয়ের দেশগুলো এ প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়াতে বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। আর এ স্নায়ুযুদ্ধ হলো সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্ব। এর ফলে নানা বিষয়ে তারা পরস্পর বিরুদ্ধবাদী নীতিতে অবতীর্ণ হয়। এ বিরুদ্ধাচরণ ঘটে যখন সোভিয়েট ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাছাড়া ট্রুম্যান তার ডকট্রিন প্রকাশ করলে এ বিদ্বেষ আরও ঘনীভূত হয়। আর গ্রিস ও তুরস্কে মার্কিন নীতি সোভিয়েত স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত হানে। যার ফলে তারা পরস্পর পরস্পরকে অপছন্দ করতে থাকে। অন্যদিকে চেকোস্লোভাকিয়ার কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা, বার্লিন অবরোধ, ন্যাটো গঠন, কোরীয় সমস্যা, চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও মার্কিন বিরোধিতা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেন হাওয়ার এর জেনেভা সম্মেলন প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ইস্যু এই ঘৃণার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। অধিকন্তু SEATO, MEDO গঠন, ওয়ারস চুক্তি, সুয়েজ খাল সংকট প্রভৃতি এই দুই রাষ্ট্রের ঘৃণা ও অপছন্দের মাত্রাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়।উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আদর্শগত কারণে পরস্পর পরস্পরকে অপছন্দ করতে থাকে যা বিশ্বব্যাপী স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল।