উক্ত পরিস্থিতি অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে বিভক্ত করে ফেলেছিল।স্নায়ুযুদ্ধ হলো মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশসমূহ ছিল গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের পক্ষে আর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্রসমূহ ছিল সাম্যবাদ বা সমাজতন্ত্রীপন্থী। স্নায়ুযুদ্ধের ফলে বিশ্ব দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পুঁজিবাদের পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, জাপান ও কানাডা। আর সমাজতন্ত্রের পক্ষে ছিল পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রসমূহ যেমন বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি, রোমানিয়া। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো মিলিত হয়ে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো (NATO) গঠন করে, যা ছিল একটি সামরিক জোট। সোভিয়েত ইউনিয়ন এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ ১৯৫৫ সালে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের সমন্বয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করে। এর নাম ছিল ওয়ারশো প্যাক্ট (WARSAW PACT)। পৃথিবী পশ্চিম ব্লক এবং পূর্ব ব্লকে বিভক্ত হয়ে যায়। এই দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও পুঁজিবাদী আদর্শের দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়েছে। দুই পরাশক্তি বিশ্বকে নিজের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেছে। যার ফলে সমগ্র বিশ্ব দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়।অতএব বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে বিভক্ত করে ফেলেছিল।