উদ্দীপকের বেড়া ভাঙার ঘটনা তথা পাঠ্যবইয়ের বার্লিন দেয়াল ভাঙার ঘটনা বিশ্বব্যাপী এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।বার্লিন দেয়াল দেওয়া হয় ১৯৬১ সালে। এতে জার্মানি পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি নামে ভাগ হয়ে যায়, যা ১৯৮৯ সালে দেয়াল ভাঙার ফলে পুনরায় দুই জার্মানি একত্রিত হয়। জার্মানি একত্রিত হওয়ার ফলে পুনরায় এটি একটি শক্তিশলী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এটি ইউরোপের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচনা করে। বার্লিন দেয়াল ভাঙার ফলে স্নায়ু বা শীতল যুদ্ধের অবসান ঘটে। শীতল যুদ্ধের ফলেই জার্মানি ভাগ হয়, আবার একত্রিত হওয়ার ফলে শীতল যুদ্ধের অবসান ঘটে। বার্লিন দেয়াল ভাঙার ফলে পূর্ব জার্মানির মতো সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়। জনগণ ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। বার্লিন দেয়াল ভাঙার ফলে জার্মানির একত্রিকরণ ইউরোপকে শক্তিশালী করে তুলে। দেয়াল ভাঙার ফলে পুঁজিবাদী অর্থনীতির জয় হয়। বিশ্বায়নের মাত্রা লাভ করে। ফলে ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটে। দেয়াল ভাঙার ফলে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। স্নায়ু যুদ্ধের অবসান ঘটলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। ফলে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে দেখা যায় বিশ্ব এক মেরুকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। মার্কিন রাষ্ট্র একাই বিশ্ব নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। পুঁজিবাদীসমাজব্যবস্থার প্রসার লাভ করে। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। এভাবে বিশ্বের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে যায়।সুতরাং বলতে পারি যে, উদ্দীপকের দেয়াল ভাঙার ন্যায় বার্লিন দেয়াল ভাঙার ফলে বিশ্বব্যাপী এক নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে।