উক্ত ঘটনা অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে।১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরে এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। বিষয়টি মিত্রশক্তি অন্যান্য দেশ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনকে বেশ সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। লেনিনের দৃঢ় নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্রুতই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটায়। পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক স্ট্যালিন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেন। পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মিত্রশক্তি জয়লাভ করে। বৈশ্বিক শান্তি আনয়নে উক্ত দেশের নেতৃবর্গ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে ইয়াল্টা ও পোটসডাম সম্মেলন অন্যতম। উক্ত দুই সম্মেলনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনেতাগণের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ জন্মে।জার্মানির বিভক্তি নিয়ে দুই রাষ্ট্র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি এ দুই ভাগে বিভক্ত করে দখল করে রাখে। এরূপ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো বিশেষত আমেরিকা ও ব্রিটেন বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী গণতন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। যাতে করে পূর্ব প্রসারমান সমাজতন্ত্র পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহকে আর গ্রাস করতে না পারে। এভাবে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী দেশগুলোর নেতৃত্বে আসে আমেরিকা আর সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর নেতৃত্ব নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এভাবে পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রীক দ্বন্দ্ব বিশ্বে দ্বিমেরুবাদের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্ব পর্যন্ত উক্ত দুই বলয়ের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজমান ছিল।সুতরাং বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ছিল অত্যন্ত জটিল যা সমগ্র বিশ্বকে দুটি শিবিরে বিভক্ত করে ফেলেছিল।