উক্ত বিষয়টি সমগ্র বিশ্বকে দুটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপন করা হলো:-
স্নায়ুযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ছিল পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতার। সোভিয়েত রাশিয়া পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজের শক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রচার করে কমিউনিস্ট মতাদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক ধ্যানধারণা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনটি ইউরোপের অনেক দেশে সমাজতান্ত্রিক দল গড়ে উঠে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া গোপনে মতাদর্শের অনুসারী রাষ্ট্র ও সংগঠনকে অস্ত্র ও অর্থ প্রদান করে ।এর ফলে বিশ্বের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক আদর্শ হুমকির সম্মুখীন হয়।
সোভিয়েত রাশিয়ার সাম্যবাদী প্রচারণা ও প্রভাব প্রতিহত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ধারকনীতি'
গ্রহণ করে। এর প্রকৃতি ছিল মূলত সামরিক। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ছিল ট্রুম্যান মতবাদ। ট্রুম্যান মতবাদের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক,সামরিক সাহায্য প্রদান করে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রভাব প্রতিরোধ করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউরোপীয় রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটি সুস্পষ্ট বিভক্ত হয়ে পড়ে। এবং ঠান্ডা লড়াইয়ে রাজনৈতিক মাত্রা ঘনীভূত হয়। পোল্যান্ড,চেকোস্লাভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া- সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে যোগদান করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক রাষ্ট্রগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগদান করে। এতে করে বিশ্ব দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।