উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধ হলো এমন একটি ঘটনা যেখানে পুঁজিবাদ বনাম সমাজতান্ত্রিক দুই ভিন্ন আদর্শিক বিশ্বব্যবস্থার পারস্পরিক স্নায়বিক সংঘর্ষের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। উভয় মেরুর সামগ্রিক পদক্ষেপে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হলেও সরাসরি যুদ্ধ বাঁধেনি। এসময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল সারা বিশ্বের মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক রাজনীতি আর স্নায়ুযুদ্ধ এক্ষেত্রে তাই অনেকটা সমর্থক। ১৯৪৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে স্নায়ুযুদ্ধের থমথমে অবস্থা বিরাজমান ছিল। এটি একই সাথে আতঙ্কের এবং আকর্ষণীয় এজন্য যে, যুদ্ধ কথাটা ব্যবহার হচ্ছে অথচ কোথাও কোনো যুদ্ধ নেই। স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলই হলো একটা উত্তেজনা বা চাপ বিরাজমান থাকা, যা স্নায়ুর ওপর উদ্বেগ তৈরি করবে প্রচণ্ডভাবে। তবে যুদ্ধ বাঁধবে না। সংক্ষেপে বলা যায়, যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়, আবার যুদ্ধের অনুপস্থিতিও নয়। এমন একটা গুমট মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশই হলো স্নায়ুযুদ্ধ। উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের আলোচিত এ স্নায়ুযুদ্ধেরই মিল রয়েছে।