উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩নং পয়েন্টে স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব দেখানো হয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধ বলতে সাম্যবাদ ও গণতান্ত্রিক মতাদর্শ এবং তাদের প্রবক্তা সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পুঁজিবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের সাথে জড়িত ঘটনাবলিকে বোঝায়। এ কথাটির ব্যবহার সম্ভবত ১৯৪৬ সালের গোড়ার দিকেই শুরু হয়। রাশিয়ার তার পশ্চিম সীমান্ত পথ বরাবরই জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হুমকির মুখে ছিল। এজন্য ইয়ান্টা বৈঠকে (১৯৪৫ইং) স্টালিন উল্লেখ করেছিলেন যে পোল্যান্ড, রুমানিয়া তথা বাল্টিক সীমান্ত পথে রাশিয়া তার প্রতি মিত্রভাবাপন্ন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারকে মেনে নেবে না। ঐতিহাসিক আইজাক ডয়েৎসের মতে রাশিয়ার এ নীতি ছিল তার আত্মরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ কয়েক মাস সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সম্পূর্ণ অংশ দখল করে নেয়। রুশ বাহিনী পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর কমিউনিস্ট দলগুলোকে সাহায্য করতে থাকে । এদিকে পেন্টাগনের সামরিক আমলাবর্গও পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের উদারনীতির প্রতি প্রসন্ন ছিলেন না। তারা নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানকে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতি কড়া নীতি প্রয়োগের জন্য প্ররোচিত করেন। এর ফলে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।