'উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দু'টি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে'— উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরনো বিশ্বব্যবস্থা বদলে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই শীর্ষ পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমর্থক এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুসারী। ফলে দেশ দু'টির মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে প্রায় গোটা বিশ্ব পরস্পরবিরোধী দু'টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায় । এতে ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও যোগ দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশ দু'টি পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিতে থাকে। দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে কিউবা, ভিয়েতনাম, কোরিয়া ও ইউরোপ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। এমনকি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। দুই বিপরীত শিবিরে বিভক্ত বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ বলয়ভুক্ত দেশগুলোকে প্রচুর আর্থিক, সামরিক, কূটনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমে এ স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দু'টি বিপরীত শিবিরে বিভক্ত করেছিল-- উক্তিটি যথার্থ।