উদ্দীপকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কথা বলা হয়েছে।
নিচে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-১৯৪৫ সালে ৫১টি রাষ্ট্রের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩টি রাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বে ৫টি রাষ্ট্র বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এগুলো হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও চীন। এ ৫টি দেশ জাতিসংঘের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। এর ফলে জাতিসংঘের যেকোনো কার্যক্রমে এ রাষ্ট্রসমূহ প্রভাব বিস্তার করে। এ রাষ্ট্রগুলোর একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে আর তা হলো 'ভেটো' (Veto) ক্ষমতা। ভেটো একটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ হলো 'আমি ইহা মানি না'। এ ক্ষমতা বলে বৃহৎ শক্তিগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তসমূহ নিজস্ব স্বার্থের পরিপন্থি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা ভেটো দিয়ে বাতিল করে দেয়। যেমন- ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটলে চীনকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ প্রদানের পক্ষে রাশিয়ার প্রস্তাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর ফলে নাকচ হয়ে যায়। আবার, ১৯৫০ সালে রাশিয়া হাঙ্গেরিতে আগ্রাসন চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তি নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করলে রাশিয়ার ভেটোর কারণে তাও বাতিল হয়ে যায়। ১৯৫৬ সালে সুয়েজ সংকট সমাধানের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ৬টি প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেয়। এ ভেটো ক্ষমতার অপপ্রয়োগের কারণে জাতিসংঘ বহু আন্তর্জাতিক সংকটের ন্যায়সংগত সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। যেমন-১৯৬৫ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হামলা, ১৯৬৮ সালে সাইপ্রাস সমস্যা, মধ্যপ্রাচ্যে বারবার ইসরায়েলের আগ্রাসন, ভিয়েতনামে মার্কিন হামলা, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তির হস্তক্ষেপের ফলে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।