বিশ্ব শান্তি রক্ষায় উক্ত সংগঠনের অর্থাৎ জাতিসংঘের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাও রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ওঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ প্রায় সাত দশক ধরে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে তা এর সাফল্যের পরিচয় বহন করে। এ সময়কালের মধ্যে বিশ্ব একাধিকবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, বিশেষ করে হাঙ্গেরি সংকট, সুয়েজ সংকট, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়, পাক-ভারত যুদ্ধ, আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, ইরান-ইরাক যুদ্ধ, কোরিয়া যুদ্ধ, ইন্দোনেশিয়া, নামিবিয়া, লিবিয়ার স্বাধীনতা এছাড়া উপনিবেশ বিলোপ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, শরণার্থী সমস্যার সমাধান, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, এ সংগঠনের ব্যর্থতাও কম নয়। জন্মলগ্ন থেকেই মার্কিন-সোভিয়েত স্নায়ুযুদ্ধের ফলে জাতিসংঘে বহু সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার উত্থানের ফলে এটি একটি রাবার স্ট্যাম্প সংগঠানে পরিণত হয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেমন সফলতা রয়েছে তেমনি ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে ব্যর্থতার চেয়ে সফলতা বেশি।