নিরাপত্তা পরিষদ উক্ত সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘের প্রাণস্বরূপ উক্তিটি যথার্থ ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার পর বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গঠিত জাতিসংঘ মূলত কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের সম্মিলিত রূপ। এগুলোর মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলো নিরাপত্তা পরিষদ। বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব এই পরিষদের। কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিষদকে তাই জাতিসংঘের মেরুদণ্ড বা হূৎপিণ্ড বলা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই জাতিসংঘ নিজেকে অত্যাধিক ক্ষমতাসম্পূর্ণ সম্পন্ন সংস্থায় পরিণত করেছে; যেমন— ক. শান্তিভঙ্গ, ভীতি প্রদর্শন এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা, খ. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, গ, আঞ্চলিক বন্দোবস্তবিষয়ক ক্ষমতা, ঘ. অছি বিষয়ক ক্ষমতা, ঙ. নতুন সদস্য গ্রহণ বিষয়ক ক্ষমতা, চ. সদস্য বহিষ্কার বিষয়ক ক্ষমতা, ছ, নির্বাচনমূলক ক্ষমতা, জ. মিলিটারি স্টাফ কমিটি গঠন ।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ৫টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে পাঁচটি রাষ্ট্র বিশ্বের বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তারাই জাতিসংঘের মূল নির্বাহী ক্ষমতা অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য লাভ করে। এ রাষ্ট্রগুলো হলো— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) ও চীন। এছাড়া প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি স্থায়ী সদস্যের পাশাপাশি ৬টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ছিল। পরবর্তীতে অস্থায়ী রাষ্ট্র ১০টিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত ১০টি অস্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র থাকলেও নিরাপত্তা পরিষদের মূল চালিকাশক্তি মূলত ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র।
তাই পরিশেষে বলা যায়, কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের প্রাণস্বরূপ।