ভেটো ক্ষমতার অপপ্রয়োগ উক্ত সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান কারণ। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাঁচটি বৃহত্তর সদস্য রাষ্ট্রের সকলের একমত হওয়া আবশ্যক। জাতিসংঘের বৃহত্ত শক্তি বলতে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে বোঝায়। যাদের ভোটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। এদের যেকোনো একটি দেশও ভেটো দিলে অর্থাৎ বিরোধিতা করলে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রস্তাব পাস হবে না। সুতরাং এ বৃহৎ শক্তিবর্গের মতৈক্য ও সদিচ্ছা ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব এর পক্ষে কোনো প্রস্তাবে গিয়ে নোয়া সম্ভব নয়।
বৃহত্ত শক্তিধর দেশগুলো জাতিসংঘের তহবিলে সিংহভাগ চাঁদা দেয়। তারা বিভিন্ন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রয়োজনে অর্থ, সৈন্য, অস্ত্র ও শক্তি দিয়েও এরাষ্ট্রগুলো সহযোগিতা করে। এ কারণে নিরাপত্তা পরিষদসহ পুরো জাতিসংঘ কাঠামোতে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বৈশ্বিক এ সংস্থায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তারা সব সময় সজাগ থাকে। নিজেদের স্বার্থের অনুকূল নয় এমন উদ্যোগ ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে আটকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। এই রূপ ভেটো ক্ষমতা বৃহৎ শক্তির হাতে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির অন্যতম অস্ত্রস্বরূপ। ভেটো ক্ষমতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে না।
সুতরাং বলা যায় যে, ভেটাে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান কারণ — বক্তব্যটি যথার্থ।