বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উত্ত বৃহৎ সংস্থা অর্থাৎ জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন চলেছে।
যে সকল মহান আদর্শকে সামনে রেখে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সবটা না হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের ভূমিকা ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশক ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে আছে তা এর সাফল্যেরই পরিচয় বহন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সার্থক হস্তক্ষেপের ফলে পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়। আর এটাই জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সফলতা।
শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল বিরোধ মীমাংসা, ১৯৫০ সালের কোরীয় সংকট দূরীকরণ, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান, লেবানন সংকট সমাধান এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান লক্ষণীয়। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, শরণার্থী সমস্যার সমাধান কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম, নারীর অধিকার রক্ষা, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও চোরাচালান রোধ, পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধসহ এমন অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।