বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠন অর্থাৎ জাতিসংঘ তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পূর্বে সরকারিভাবে কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তবে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বে প্রবল জনমত সৃষ্টি হয়। এর ফলে ১৯৭১ সালের মে মাসে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে যে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাতে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এটিও ছিল এক ধরনের স্বীকৃতি। এ বৈঠকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চেয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট-এর কাছে একটি পত্র দেন। পত্রটি নিরাপত্তা পরিষদে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিকে অধিবেশনে অংশ নেওয়া কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অপরপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।