উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃহৎ রাষ্ট্রটি হলো সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের অন্যতম কারণ হলো কমিউনিজমের অন্তঃসারশূন্যতা। কেননা, সাম্যবাদ বা কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও উৎপাদন প্রভৃতি বিষয়কে প্রচারণায় জোর দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় যে ধরনের আদর্শ বিরাজ করার কথা ছিল নেতৃবৃন্দ তা থেকে বিচ্যুত হওয়ায় তা জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, সোভিয়েত নেতৃবৃন্দ দিনদিন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা পশ্চিমা বিশ্বের মোহময় হাতছানি দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে জনগণ এ সকল নেতাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির আরেকটি কারণ ছিল অর্থনৈতিক স্থবিরতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের গড় জাতীয় আয়ের শতকরা ৩০ভাগ ব্যয় হতো সামরিক প্রয়োজনে। রাশিয়ার উৎপাদিত ইস্পাতের ৭৫ শতাংশ ব্যয় হতো কামান, সমরাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণে। এর ফলে সামরিক শক্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন দুর্জয় ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেও ভোগ্যপণ্য, শিল্প উৎপাদনে বিনিয়োগযোগ্য পুঁজির অভাব দেখা দেয়। এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারসাম্যহীন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা নীতি, সমাজতন্ত্রের মৌলিক সমস্যা, পশ্চিমা নীতি ও কৌশল- এর তুলনায় দুর্বল নীতি ও কৌশল প্রভৃতির কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপর্যুক্ত কারণেই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি সাধিত হয়।