ঐক্যবদ্ধ জার্মানি তথা বিশ্বের ইতিহাসে জার্মানির একত্রীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা।
জার্মানির একত্রীকরণের মাধ্যমে সোভিয়েন ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধেরও অবসান ঘটে। জার্মানির একত্রীকরণ ইউরোপের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শক্তি কাঠামোকে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে আন্দোলিত করছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসন লাভের চেষ্টা জার্মানি ইতিমধ্যে ব্যস্ত করেছে। জার্মানি ছিল একসময় ইউরোপের পরাশক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে উঠে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে আবার অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়। মিত্রশক্তির কূটকৌশলেরও শক্তিদ্বন্দ্বের ফলে জার্মানি বিভক্ত হলেও ঐক্যবদ্ধ জার্মানি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কেননা, জাতি-রাষ্ট্র জার্মানদের রয়েছে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনা। তাদের দেশপ্রেমে ও জাতীয়তাবোধে রয়েছে ঐক্যের সুর। তাই তারা শক্তিশালী শক্তিবর্গের দ্বারা নির্মিত বার্লিন প্রাচীরকে ভেঙে ঐক্যবদ্ধ জার্মানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে। অতীত অভিজ্ঞতাই বলে দেয়, জার্মানি আবার ইউরোপের শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান অচিরেই জানান দেবে। জার্মানির এ সম্ভাব্য শক্তিকে সঠিক পথে ব্যবহার ও পরিচালিত করতে বিশ্বের বৃহৎ শক্তি যদি সহযোগিতা করে, তবে জার্মানির উন্নয়ন যেমন গতিশীল হবে, তেমনি সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নে সহায়ক হবে।