উদ্দীপকের মিশরীয় সাম্রাজ্যের পতনের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে প্রাচীন মিশরে ২৪টি নোম বা নগররাষ্ট্র ছিল। কালক্রমে। নোমগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব তৈরি হয় এবং তারা বিদ্রোহ করে স্বাধীন হয়ে যায়। ফলে মিশরীয় সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। মিশরীয় সাম্রাজ্যের মতো সোভিয়েত ইউনিয়নেও ১৫টি প্রজাতন্ত্র ছিল। মিখাইল গর্বাচেভ শাসনক্ষমতায় এসে পুনর্গঠন ও খোলামেলা নীতি গ্রহণের পর সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয় এবং জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান ইত্যাদি অঙ্গরাজ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। মিখাইল গর্বাচেভের সংস্কারসমূহ ১৯৮৮ সালের শুরুর দিকে বাল্টিক প্রজাতন্ত্রসমূহে 'জনপ্রিয় ফ্রন্ট'-কে সহ্য করার ইঙ্গিত দেয়। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে ওই বছরের নভেম্বর মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনকারী প্রজাতন্ত্রের মধ্যে এস্তোনিয়া সর্বপ্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এরপর ১৯৯০ সালের ১১ মার্চ লিথুয়ানিয়া সরকারিভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এভাবে জর্জিয়া, লাটভিয়া, আর্মেনিয়াসহ ইউনিয়নের সকল প্রজাতন্ত্র তাদের স্বাধীন হওয়ার মনোবাসনা ব্যক্ত করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৫টি প্রজাতন্ত্রের প্রায় সবাই কেন্দ্রের অনুশাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়। ফলে রাশিয়ার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
পরিশেষে ১৯৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর ১৫টি প্রজাতন্ত্রের ১১টি কাজাকিস্তানের রাজধানী আলমাআটায় কমনওয়েলথ গঠনের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর মিখাইল গর্বাচেভ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং এভাবেই সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়।