উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে পৃথিবীর বৃহৎ এক শক্তির বিলুপ্তি ঘটে। সেই সাথে পরিবর্তিত হয় পুরো পৃথিবীর রাজনৈতিক ভারসাম্য। এ সময় শুধু যে একটি জোটের অপসারণ ঘটে তাই নয়; দীর্ঘ প্রায় সাত দশক ধরে প্রভাব বিস্তারকারী একটি পরাশক্তির অন্তর্ধান ঘটে। সৃষ্টি হয় ছোট ছোট স্বাধীন রাষ্ট্রের। শুরু হয় ন্যাটোর হস্ত সম্প্রসারণ নীতি। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে। সেই সাথে পুরো পৃথিবীর ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় সাত দশক ধরে প্রভাব বিস্তারকারী সোভিয়েত রাশিয়ার অন্তর্ধান ঘটলে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ন্যাটো তার হস্ত প্রসারিত করতে করতে বাল্টিকের তীর পর্যন্ত উপস্থিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য বিশ্বে কোনো আদর্শ, কোনো দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর রইল না। ন্যাটোর প্রভাবে পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। বিশ্বে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটায় দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির স্থলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্রুত অনুসৃত হতে থাকে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে।