পরিবর্তনটি অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে-উক্তিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বিশ্বের শক্তিসাম্য নষ্ট হয় এবং পৃথিবী যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত হয়। এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা উদ্ভব ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মার্কিন মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
ন্যাটোর প্রভাব অপ্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হচ্ছে। কুয়েতে আমেরিকা নীতি, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, আফগানিস্তানে আমেরিকার আক্রমণ, সোভিয়েত ইউনিয়নের অবলুপ্তির প্রত্যক্ষ ফল ও প্রভাব বলে অনেকে ধারণা পোষণ করেন। সম্প্রতি চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলো সংযুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তির চরম বিকাশের এ যুগে তথ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য সাম্রাজ্যবাদ আর তথ্যযুদ্ধ হয়ে উঠছে এখন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তু। একক পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করেছে, বলে অনেকের ধারণা। বিশ্বব্যাপী দ্বন্দ্ব- সংঘাত বৃদ্ধি বিকল্প পরাশক্তির উত্থানকে ক্রমেই জরুরি করে তুলেছে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে- উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।