যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বকে বিভক্ত করেছিল— কথাটি সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সংঘটিত স্নায়ুযুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না। এ যুদ্ধ এমন এক ধরনের উত্তেজনা যার উপস্থিতিতে রাষ্ট্রসমূহে প্রতিটি পক্ষ নিজের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য এবং অপর পক্ষের শক্তি খর্ব করার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে থাকে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরস্পরবিরোধী আদর্শের জের ধরে স্নায়ুযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে । তবে দুটি দেশই প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি । এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে থাকলেও কখনো সম্মুখ যুদ্ধে আসেনি। উভয় রাষ্ট্রই একে অপরকে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিজম বিস্তার রোধে বিভিন্ন নীতি যথা: মার্শাল পরিকল্পনা, ট্রুমান নীতি গ্রহণ করে, যেটি স্নায়ুযুদ্ধকে যথেষ্ট উসকে দিয়েছিল। প্রকাশ্য সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে দুই পরাশক্তিই পরোক্ষভাবে পরস্পরকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ কম ঝুঁকিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ দ্বন্দ্ব চলে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৬৯ সালের বার্লিন সংকট, কোরিয়া সংকট এবং কিউবা সংকটের কথা বলা যায়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হলে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে ।
পরিশেষে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে লিপ্ত না হলেও তাদের মধ্যে যুদ্ধভাব বজায় ছিল। আর তাদের সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত বিশ্বকে বিভক্ত করেছিল।