স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে উক্ত রাষ্ট্রনায়ক তথা মিখাইল গর্বাচেভের ভূমিকা অপরিসীম।
কোনো পরিস্থিতিই বিশ্বে চিরস্থায়িত্ব লাভ করে না। সময়ের পরিক্রমায় নিয়মের অধীনেই স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে যার অবদান অবিস্মরণীয় তিনি হলেন মিখাইল গর্বাচেভ। মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা লাভ করে স্থবির অর্থনীতি, শাসক দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতি, সোভিয়েত সমাজব্যবস্থার অবক্ষয়, সমাজতন্ত্রের বিকৃতি, স্নায়ুযুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্রভৃতি লক্ষ করেন। গর্বাচেভ এ সমস্যা মোকাবিলার জন্য 'গ্লাসনস্ত' (উদারনীতি) ও 'পেরেস্ত্রোইকা (পুনর্গঠন) কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার কর্মসূচি পশ্চিমা বিশ্বে সমাদৃত হলে স্নায়ুযুদ্ধের আবহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমতে শুরু করে ।
১৯৯১ সালের জুন মাসে গর্বাচেভ অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বকে জানান যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিমের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে আগ্রহী। এ সময় তাকে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৃহৎ সাতটি শিল্পোন্নত দেশের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এভাবে গর্বাচেভ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে চিরাচরিত কমিউনিস্টদের সংঘাতের নীতি পরিবর্তন করে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে সহায়তা করেন, যার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সাথে মালটায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের সরকারি ঘোষণা দেন।