উদ্দীপকে বর্ণিত মিরপুর গ্রামের সাথে আমার পঠিত রাশিয়া বা ভূতপূর্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমতপুর ও মিরপুর দুটি সম্পদশালী বিরোধী গ্রামের বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোও দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মিরপুর গ্রাম ভেঙে যায়। মিরপুর গ্রামের এ পরিস্থিতির সাথে আমার পঠিত স্নায়ুযুদ্ধকালীন রাশিয়ার মিল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে দুটি পরাশক্তির উত্থান ঘটে। এ দুটি পরাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়ার পূর্বসূরি)। আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী আদর্শের অনুসারী। অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুঁজিবাদের শত্রু সমাজতন্ত্রের সূতিকাগার। ১৯১৭ সালে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয় । সোভিয়েত ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে আদৌ গণতন্ত্র বলে স্বীকার করত না। কারণ তাদরে মতে, এ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র হলো ধনীদের যন্ত্র এবং জনগণের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সাম্যবাদকে দোষারোপ করে। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করত। ফলে উদ্ভব হয় স্নায়ুযুদ্ধের। স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফল হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারসাম্যহীন প্রতিরক্ষা নীতি, অতি কেন্দ্রিকতা, সমজতন্ত্রের কিছু মৌলিক সমস্যা এবং পশ্চিমাদের তুলনায় দুর্বল নীতি ও কৌশল প্রভৃতির কারণে দেশটির ভাঙ্গন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে এবং ১৮৮৯-৯০ সময়কালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।