উদ্দীপকে যে বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে তা হলো স্নায়ুযুদ্ধ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইসরাইল-ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দুটির দ্বন্দ্ব-সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ দু রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে বলে আজ বিশ্ববাসী আতঙ্কিত। এরূপ অবস্থাকে পাঠ্যবইয়ের আলোকে স্নায়ুযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। কেননা, স্নায়ুযুদ্ধ বলতে এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে, যা যুদ্ধও নয় আবার শান্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থাকে স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়। এ স্নায়ুযুদ্ধ উদ্ভবের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান ছিল। তবে এর মূল কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী ইরান দখল করায় যুদ্ধের পর ইরান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অন্যদিকে ইয়াল্টা চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জাপানে যুদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে সে সুযোগ না দিয়ে আনবিক বোমা ফেলে জাপান দখল করে নিলে রাশিয়া এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এছাড়া গ্রিসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘোষণা করা হলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে মার্কিন দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়। তাছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল তুর্কি বিদ্রোহ। এ সকল কারণ ছাড়াও চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতা, তৃতীয় বিশ্বে শূন্যতা সৃষ্টি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া প্রভৃতির ফলে স্নায়ুযুদ্ধের উদ্ভব ঘটে।
সুতরাং বলা যায়, উপর্যুক্ত কারণে স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War) এর সূচনা হয়।